একটা সময়ে খেলা ছিল নিছক আনন্দের। খেলার মাধ্যমে শারীরিক ব্যয়াম, ফিটনেস ধরে রাখা, মানসিক প্রশান্তিই ছিল মূল উদ্দেশ্য। কিন্তু খেলায় অর্থের মোহ ঢুকে যাওয়ায়; খেলোয়াড়দের কদর বাড়লেও কমেছে পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধা ও সম্মানবোধ। অর্থের মোহে অবৈধ সুবিধা নিচ্ছে ক্রিকেটে নিজেদের এলিট দাবি করা ভারত।
বর্তমান ক্রিকেটে পরাশক্তি দল ভারত। ভারতীয়রাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের হর্তাকর্তা। তাদের কথায় সব হয়। আইসিসি থেকে যা আয় হয় তার সিংহভাগ নিয়ে নেয় ভারত। বাকিদের দেওয়া হয় নামকা ওয়াস্তে কিছু অর্থ। শুধু তাই নয়, ভারত চাইলে ক্রিকেটে সব কিছুই সম্ভব।
সর্বশেষ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির আয়োজক ছিল পাকিস্তান। দেশটিতে খেলতে যেতে অস্বীকৃতি জানায় ভারত। আইসিসি ভারতের সব ম্যাচের ভেন্যু ঠিক করে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ভেন্যু নিয়ে জটিলতার পর অবশ্য একটা সমঝোতায় পৌঁছেছে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দুই দেশ ভারত-পাকিস্তান। যে কারণে আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে যেতে হচ্ছে না পাকিস্তানকে। তাদের ম্যাচগুলো হবে শ্রীলংকার মাঠে।
ভারত-পাকিস্তানের টানাপড়নের মধ্যে নতুন করে নাম চলে আসে বাংলাদেশের। যার কারণটা অবশ্য আইপিএলকে ঘিরে। উগ্রবাদীদের হুমকিতে মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার পর ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় বিসিবি। আইসিসি সাফ জানিয়ে দিয়েছে বিশ্বকাপ খেলতে হলে বাংলাদেশকে ভারতেই যেতে হবে। তবে বাংলাদেশ আজ ২২ জানুয়ারি সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা ভারতে গিয়ে বিশ্বকাপ খেলবে না।
আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলের ভেন্যু পরিবর্তন না করে বাংলাদেশ দলকে নিয়ে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করে। একটি ছোট ক্রিকেট খেলুড়ে দেশকে ইচ্ছাকৃতভাবে অপমান করার কৌশল; তাদের সামনে আল্টিমেটাম ছুড়ে দেয়া- মেনে নাও, না হলে বাদ পড়ো। এই পুরো ঘটনার ভাষা, যুক্তি, অসঙ্গতি এবং নগ্ন ক্ষমতার প্রদর্শন গভীরভাবে লজ্জাজনক।
এমন পরিস্থিতে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়ে পাকিস্তানকে বর্তমান ক্রিকেট ব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ জানাতে বলেছেন পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক রশিদ লতিফ। পাকিস্তানের প্রভাবশালী পত্রিকা দ্য নেশনের সম্পাদকীয়তে বলা হয়েছে ‘আইসিসি করাপ্টেড’। আইসিসিকে নতুনভাবে ঢেলে সাজানোর দাবি তুলে ধরা হয়েছে সেই প্রতিবেদনে।
সেই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এখন সময় এসেছে পাকিস্তানের নেতৃত্বে বৃহত্তর ক্রিকেট বিশ্ব- ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, শ্রীলংকা, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা ও অন্যান্য দেশগুলোকে একত্রিত হয়ে এই ক্ষুদ্র রাজনৈতিক হিসাব নিকাশের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর। যা একটি মাত্র রাষ্ট্রের অতিরিক্ত প্রভাবের কারণে এই সুন্দর খেলাটিকে কলুষিত করছে। এই প্রভাব মূলত ভারতের ১৪০ কোটি জনসংখ্যা এবং সেখান থেকে আসা বিপুল রাজস্বের ফল। কিন্তু অর্থকে কখনোই খেলাধুলাকে দুর্নীতিগ্রস্ত করার বা তাকে জিম্মি করে রাখার সুযোগ দেয়া উচিত নয়।
