তরল জ্বালানির রিফাইনারি দেওয়ার বেসরকারিকরণে তোড়জোড় শুরু করেছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) ও সরকারের জ্বালানি বিভাগ। দেশে গ্যাস ও তরল জ্বালানিতে নানামুখী সংকটের মধ্যেই দ্রুততার সঙ্গে এমন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে।
জানা যায়, দেশের একটি বড় শিল্পগ্রুপকে বেসরকারিতে জ্বালানি তেল পরিশোধন আমদানি ও বিপণনের সুযোগ করে দিতে ২০২৩ সালে আওয়ামী লীগ সরকার বেসরকারি জ্বালানি নীতিমালা-২০২৩ করেছিল। এতে দেশের বিশিষ্টজনের দ্বিমত থাকলেও শেষমেষ ওই শিল্পগ্রুপকে বেসরকারিতে সুযোগ দিতে পারেনি। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পতনের পরপরই পরের ২৫ সেপ্টেম্বর নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানিপূর্বক প্রক্রিয়াকরণ, মজুত ও বিপণনের জন্য জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগে আবেদন করে চট্টগ্রামভিত্তিক টিকে গ্রুপের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান সুপার পেট্রোকেমিক্যাল লিমিটেড (এসপিএল), বর্তমানে এসপি পিএলসি।
আবেদনে প্রায় সাড়ে ১৫ লাখ টন পণ্য উৎপাদনের লক্ষ্যের কথা উল্লেখ করলেও বিনিয়োগের আর্থিক কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি। ওই আবেদনের ওপর ভিত্তি করে পরের ৩০ সেপ্টেম্বর জ্বালানি বিভাগ বিষয়টিতে মতামত চেয়ে বিপিসিকে চিঠি দেয়। এ নিয়ে বিপিসির মহাব্যবস্থাপক (বণ্টন ও বিপণন) মো. জাহিদ হোসাইনকে আহ্বায়ক করে কমিটি গঠন করে বিপিসি।
এরপর অতিগোপনে গত বছরের ২০ এপ্রিল বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সুপার পেট্রোকেমিক্যাল লিমিটেডকে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানিপূর্বক মজুত, পরিবহন ও প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে উৎপাদিত জ্বালানি তেল নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় বিপণনের অনুমতি দেওয়ার সুপারিশ করে জ্বালানি বিভাগের সচিবকে চিঠি দেন বিপিসির সদ্য ওএসডি হওয়া চেয়ারম্যান মো. আমিন উল আহসান।
জ্বালানি খাতের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমান সময়ে বার্ষিক ১৫ লাখ টন উৎপাদন সক্ষমতার একটি রিফাইনারি প্রতিষ্ঠায় ২০ হাজার কোটি টাকার বেশি অর্থের প্রয়োজন পড়বে।
সূত্র জানায়, ৯ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৫টায় জুম প্ল্যাটফর্মে বিপিসির ১০১৭তম বোর্ড সভার জন্য ৮ ফেব্রুয়ারি ডি নথিতে একটি নোটিশ দেন বিপিসি সচিব শাহিনা সুলতানা। বোর্ডসভার ৩ নম্বর আলোচ্যসূচিতে ছিল ‘সুপার পেট্রোকেমিক্যাল লিমিটেড (এসপিএল) কর্তৃক অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানিপূর্বক মজুত, পরিবহন ও প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে উৎপাদিত জ্বালানি তেল নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় বিপণনের অনুমতি প্রদান প্রসঙ্গে।’ কিন্তু ৯ ফেব্রুয়ারির সেই মিটিং একদিন এগিয়ে এনে ৮ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৫টায় আয়োজন করা হলে পুরো বিষয়টি নিয়ে বিপিসি ও অঙ্গ প্রতিষ্ঠানগুলোতে অসন্তোষ তৈরি হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিপিসি ও অঙ্গ প্রতিষ্ঠান পদ্মা, মেঘনা, যমুনা ও ইআরএলের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে বলেন, ‘ইআরএল-২ প্রকল্পটি এখনো শুরুই হয়নি। এর মধ্যে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে নতুন রিফাইনারির অনুমতি দিয়ে ইআরএল-২ প্রকল্প আবার ঝুলে যাবে। কারণ বেসরকারি শিল্পগ্রুপগুলো প্রভাবশালী। তারা রাজনৈতিক প্রভাব কাটিয়ে ইআরএল-২ প্রকল্পটি বিলম্বিত করবে। বিগত সময়ে দেশি বিদেশি ষড়যন্ত্রে ইআরএল-২ প্রকল্পটি দীর্ঘ ১২ বছর ধরে ঝুলে রয়েছে। যেটি বিগত আওয়ামী লীগ সরকার শেষ সময়ে কোনো বিনিয়োগ ছাড়াই পিপিপিতে সমালোচিত শিল্পগ্রুপ এস আলমকে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।’
একদিন এগিয়ে এনে মিটিংয়ের বিষয়ে জানতে চাইলে একটি গণমাধ্যমকে বিপিসির সচিব শাহিনা সুলতানা বলেন, ‘আমি আদিষ্ট হয়ে নোটিশ করেছি। আগামীকাল (৯ ফেব্রুয়ারি) মিটিংটি হওয়ার কথা ছিল। আমি নির্বাচনের দায়িত্বে বাইরে আছি। মিটিংটি আগামীকালের (৯ ফেব্রুয়ারি) পরিবর্তে আজ (রবিবার) হয়েছে।’
৮ ফেব্রুয়ারি পর্ষদের জুম সভায় বিপিসির ঊর্ধ্বতন মহাব্যবস্থাপক (বাণিজ্য ও অপারেশন) মণি লাল দাশ উপস্থাপিত ১০১৭তম বোর্ডসভার কার্যপত্র পর্যালোচনায় দেখা যায়, ‘বিদ্যমান নীতিমালার আওতায় প্রাথমিক অনুমতি প্রদানের বিষয়টি জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ কর্তৃক বিবেচনা করা যেতে পারে’ বলে সুপারিশ করা হয়।
কার্যপত্রে উল্লেখ করা হয়, সুপার পেট্রোকেমিক্যালের ন্যাফতা ও কনডেনসেট প্ল্যান্টের প্রক্রিয়াকরণ ক্ষমতা বার্ষিক সাড়ে ছয় লাখ টন। (যা বর্তমানে চালু আছে)। ক্রুড অয়েল প্রক্রিয়াকরণের লক্ষ্যে স্থাপন হতে যাওয়া প্ল্যান্টের বার্ষিক প্রক্রিয়াকরণ ক্ষমতা প্রায় সোয়া ১৯ লাখ টন। বেসরকারি নীতিমালার আওতায় বেসরকারি উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠান দেশে নিজস্ব কিংবা যৌথ মালিকানায় বার্ষিক ন্যূনতম ১৫ লাখ টন ক্ষমতাসম্পন্ন অপরিশোধিত জ্বালানি পরিশোধন/প্রক্রিয়াকরণের ক্ষমতাসম্পন্ন রিফাইনারি স্থাপন করতে পারে; নীতিমালার শর্ত অনুযায়ী এসপিএলের নিজস্ব জেটি সুবিধা রয়েছে। নদীর ড্রাফট বিবেচনায় বর্তমানে জেটিতে ১০০০-১২০০ টনের ধারণক্ষমতার জাহাজ থেকে তেল বোঝাই ও খালাস করা হচ্ছে। এর মধ্যে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে নতুন রিফাইনারির অনুমতি দিয়ে ইআরএল-২ প্রকল্প আবার ঝুলে যাবে। কারণ বেসরকারি শিল্পগ্রুপগুলো প্রভাবশালী। তারা রাজনৈতিক প্রভাব কাটিয়ে ইআরএল-২ প্রকল্পটি বিলম্বিত করবে। বিগত সময়ে দেশি বিদেশি ষড়যন্ত্রে ইআরএল-২ প্রকল্পটি দীর্ঘ ১২ বছর ধরে ঝুলে রয়েছে। যেটি বিগত আওয়ামী লীগ সরকার শেষ সময়ে কোনো বিনিয়োগ ছাড়াই পিপিপিতে সমালোচিত শিল্পগ্রুপ এস আলমকে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।’
একদিন এগিয়ে এনে মিটিংয়ের বিষয়ে জানতে চাইলে একটি গণমাধ্যমকে বিপিসির সচিব শাহিনা সুলতানা বলেন, ‘আমি আদিষ্ট হয়ে নোটিশ করেছি। আগামীকাল (৯ ফেব্রুয়ারি) মিটিংটি হওয়ার কথা ছিল। আমি নির্বাচনের দায়িত্বে বাইরে আছি। মিটিংটি আগামীকালের (৯ ফেব্রুয়ারি) পরিবর্তে আজ (রবিবার) হয়েছে।’
৮ ফেব্রুয়ারি পর্ষদের জুম সভায় বিপিসির ঊর্ধ্বতন মহাব্যবস্থাপক (বাণিজ্য ও অপারেশন) মণি লাল দাশ উপস্থাপিত ১০১৭তম বোর্ডসভার কার্যপত্র পর্যালোচনায় দেখা যায়, ‘বিদ্যমান নীতিমালার আওতায় প্রাথমিক অনুমতি প্রদানের বিষয়টি জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ কর্তৃক বিবেচনা করা যেতে পারে’ বলে সুপারিশ করা হয়।
কার্যপত্রে উল্লেখ করা হয়, সুপার পেট্রোকেমিক্যালের ন্যাফতা ও কনডেনসেট প্ল্যান্টের প্রক্রিয়াকরণ ক্ষমতা বার্ষিক সাড়ে ছয় লাখ টন। (যা বর্তমানে চালু আছে)। ক্রুড অয়েল প্রক্রিয়াকরণের লক্ষ্যে স্থাপন হতে যাওয়া প্ল্যান্টের বার্ষিক প্রক্রিয়াকরণ ক্ষমতা প্রায় সোয়া ১৯ লাখ টন। বেসরকারি নীতিমালার আওতায় বেসরকারি উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠান দেশে নিজস্ব কিংবা যৌথ মালিকানায় বার্ষিক ন্যূনতম ১৫ লাখ টন ক্ষমতাসম্পন্ন অপরিশোধিত জ্বালানি পরিশোধন/প্রক্রিয়াকরণের ক্ষমতাসম্পন্ন রিফাইনারি স্থাপন করতে পারে; নীতিমালার শর্ত অনুযায়ী এসপিএলের নিজস্ব জেটি সুবিধা রয়েছে। নদীর ড্রাফট বিবেচনায় বর্তমানে জেটিতে ১০০০-১২০০ টনের ধারণক্ষমতার জাহাজ থেকে তেল বোঝাই ও খালাস করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান গণমাধ্যমকে বলেন, ‘বেসরকারিতে রিফাইনারি করার জন্য এখনো পর্যন্ত সরকারের কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।’
বিপিসির মিটিংয়ের বিষয়কে প্রক্রিয়াগত উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, ‘ওরা (এসপিএল) আগেও আবেদন করেছিল। যে-ই আবেদন করবে, তারটাই মিটিংয়ে যাবে। এখানে কোনো টেন্ডার হবে না। যাদের ফ্যাসিলিটিজ আছে, তারাই আবেদন করতে পারে। যারাই আবেদন করবে, তাদের আবেদনগুলো বিপিসিতে পাঠানো হবে। আর কেউ আবেদন করলে তারটিতেও একই হবে।’
বিপিসি তড়িঘড়ি করে মিটিং করার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা তড়িঘড়ি করে কোনো মিটিং করার জন্য বিপিসিকে বলিনি। এখানে আমার নিজের কোনো প্রভাব নেই।’
