ভারতের সঙ্গে বিএনপির চুক্তির বিষয়ে যেসব কথা বলা হচ্ছে তা সম্পূর্ণ অসত্য এবং এটি নিয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে উল্লেখ করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপত্র মাহদী আমীন। তিনি বলেন, ‘একটি রাজনৈতিক দলের খুব প্রভাবশালী একজন নেতা ভারতের সঙ্গে বিএনপির চুক্তির বিষয়ে যে দাবি করেছেন, সেটি মূলত একটি মিডিয়ার কথা। স্বাভাবিকভাবে, তার স্বপক্ষে তিনি কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেননি। আর প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারবেন না; কারণ সেটির ন্যূনতম বাস্তবতা নাই, সত্যতা নাই।’
আজ শনিবার গুলশান ৯০ নম্বর রোডে বিএনপির নির্বাচনী কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন। বিতর্ক তৈরি করার জন্য এটি একটি রাজনৈতিক অপকৌশল উল্লেখ করে মাহদী আমীন বলেন, ‘যদি উনাকে ভুল তথ্য প্রদান করা হয় এবং তিনি তা ছড়ান, তাহলে সেটি উনার অজ্ঞতা। আমরা মনে করি, এটা অপকৌশল বা অজ্ঞতা যেটিই হোক, ভারতের সঙ্গে বিএনপির চুক্তির বিষয়ে যেসব কথা বলা হচ্ছে তা সম্পূর্ণরূপে ও অপপ্রচার।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বলতে সেটাই বুঝি, এখানে ইতিবাচক রাজনীতি হবে। কোনো অপপ্রচার, অপরাজনীতি হওয়া উচিত না। কারণ, বিএনপির রাজনীতি মানে বাংলাদেশপন্থি রাজনীতি। আমাদের নেতা তারেক রহমানের যে রাজনীতি, সেখানে সবার আগে বাংলাদেশ। দেশের স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব জনগণের ক্ষমতা- এটি কেন্দ্র করেই বিএনপির রাজনীতি।’ ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে বিএনপি চেয়ারম্যানের এই উপদেষ্টা বলেন, ‘ফ্যামিলি কার্ড বা কৃষক কার্ডের নামে যদি কেউ কোনো টাকা পয়সা দাবি করে, সেটা একেবারে অনাকাঙ্ক্ষিত।’
তিনি বলেন, ‘একটি প্রতারক চক্র বিতর্ক সৃষ্টির লক্ষ্যে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড দেওয়ার নামে কিছু কিছু জায়গায় টাকা চাচ্ছে। বিএনপি চেয়ারম্যান নারীর ক্ষমতা এবং কৃষকের সমৃদ্ধির জন্য ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড প্রদানের যে পরিকল্পনা নিয়েছেন ইতিমধ্যে তা দেশব্যাপী আলোচিত ও সমাদৃত হয়েছে। বিএনপি যদি জনগণের ভোটে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পায়, সম্পূর্ণ বিনামূল্যে এবং যথাযথ ব্যক্তিদের হাতে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে এই কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে।’
মাহদী আমীন জানান, দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান নির্বাচনী সমাবেশে অংশ নিতে আজ রাতে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা হবেন। আগামীকাল (২৫ জানুয়ারি) সকালে তিনি স্থানীয় একটি হোটেলে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩০০ শিক্ষার্থীদের নিয়ে ‘ইউথ পলিসি টকে’ অংশগ্রহণ করবেন। এরপর তিনি চট্টগ্রাম পোলগ্রাউন্ড মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী সমাবেশ করবেন। সেখান থেকে বেরিয়ে তিনি পাইলট হাইস্কুল মাঠে নির্বাচনী সমাবেশে বক্তব্য রাখবেন। তারপর তিনি কুমিল্লায় চৌদ্দগ্রাম হাইস্কুল মাঠ, সোনাগাজী দিকবাজির মাঠ এবং দাউদকান্দি উপজেলার কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে তিনটি নির্বাচনী সমাবেশে অংশগ্রহণ করবেন। পথে তিনি নারায়ণগঞ্জের কাজলামাঠে নির্বাচনী সমাবেশে যোগদান করবেন। বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাদের একাংশ তারেক রহমানের সফরসঙ্গী হবেন।
