রোববার থেকে শুরু হওয়া এ বিক্ষোভের সূচনা হয় দোকানদারদের আন্দোলনের মাধ্যমে। সরকারের মুদ্রানীতির ব্যর্থতা, মুদ্রার বড় ধরনের অবমূল্যায়ন ও দ্রুত মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে তারা রাস্তায় নামেন। এরপর বিক্ষোভ দ্রুতই বিভিন্ন প্রদেশে ছড়িয়ে পড়ে এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে রূপ নেয়। তীব্র অর্থনৈতিক সংকট ও মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে ইরানে ব্যাপক সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে। দেশটির গণমাধ্যম ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত বিভিন্ন প্রদেশে সংঘর্ষে একাধিক ব্যক্তি নিহত ও বহু মানুষ আহত হয়েছেন। এটিকে গত তিন বছরের মধ্যে ইরানের সবচেয়ে বড় সরকারবিরোধী বিক্ষোভ হিসেবে দেখা হচ্ছে। খবর বিবিসি। আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ফারস এর বরাতে বিবিসি জানায়, পশ্চিম ইরানের লোরেস্তান প্রদেশে একটি পুলিশ স্টেশনে হামলার ঘটনায় অন্তত তিনজন বিক্ষোভকারী নিহত ও ১৭ জন আহত হয়েছেন। ফারসের প্রতিবেদনে বলা হয়, বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ছয়টার দিকে বিক্ষোভকারীরা পুলিশ সদর দপ্তরে প্রবেশ করে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায়। সেসময় বেশ কয়েকটি পুলিশের গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয় বিক্ষোভকারীরা।
এছাড়া, চাহারমাহাল ও বাখতিয়ারি প্রদেশের লোরদেগান শহরেও সংঘর্ষে প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর কুহদাস্তে একজন নিহত হওয়ার বিষয়টি কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে। পাশাপাশি, মধ্যাঞ্চলীয় ইসফাহান প্রদেশেও একজন নিহত হয়েছেন। ববার থেকে শুরু হওয়া এ বিক্ষোভের সূচনা হয় দোকানদারদের আন্দোলনের মাধ্যমে। সরকারের মুদ্রানীতির ব্যর্থতা, মুদ্রার বড় ধরনের অবমূল্যায়ন ও দ্রুত মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে তারা রাস্তায় নামেন। এরপর বিক্ষোভ দ্রুতই বিভিন্ন প্রদেশে ছড়িয়ে পড়ে এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে রূপ নেয়। চলমান বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে সরকার একদিকে নিরাপত্তা জোরদার করেছে, অন্যদিকে আলোচনার প্রস্তাবও দিয়েছে। সরকারের মুখপাত্র ফাতেমেহ মোহাজেরানি জানান, ব্যবসায়ী ও পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরাসরি সংলাপে বসবে সরকার। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
বিশ্লেষকরা বলছেন, পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কারণে দীর্ঘদিন ধরেই ইরানের অর্থনীতি সংকটে রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলোর নিষেধাজ্ঞার ফলে দেশটির পরমাণু কর্মসূচি কেন্দ্র করে অর্থনৈতিক চাপ বেড়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে জুন মাসে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলা। ২০২৫ সালে ডলারের বিপরীতে প্রায় অর্ধেক মূল্য হারিয়েছে ইরানি রিয়াল। ডিসেম্বর মাসে দেশটির সরকারি হিসাবে মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৪২ দশমিক ৫ শতাংশে।
