তরল জ্বালানিনির্ভর বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো ফার্নেস অয়েল ও ডিজেল দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে। বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো সাধারণত জ্বালানি আমদানি করে নিজেরা। অনেকে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) মাধ্যমে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) থেকে তেল নেয়। পিডিবির চাহিদা অনুযায়ী আমদানির মাধ্যমে তরল জ্বালানি সরবরাহ করে বিপিসি।
বর্তমানে চাহিদামাফিক ফার্নেস অয়েল নিচ্ছে না পিডিবি। এতে বেকায়দায় পড়ছে বিপিসি। তৈরি হয়েছে আলেজ (জ্বালানি তেল ধারণ সক্ষমতা) সংকটের আশঙ্কা। সংকট এড়াতে বিপিসি গত দুই মাস ফার্নেস অয়েল আমদানি বন্ধ রাখে। তবে ইস্টার্ন রিফাইনারির উৎপাদন স্বাভাবিক থাকায় ধীরে ধীরে ফার্নেস অয়েলের মজুত বাড়লেও আলেজ সংকটে ইস্টার্ন রিফাইনারি বন্ধের হুমকিতে রয়েছে বলে জানিয়েছে বিপিসি। বিপিসির তথ্য অনুযায়ী, ডিসেম্বর মাসের ৩৫ হাজার টন সংশোধিত চাহিদার বিপরীতে ১৪ দিনে মাত্র দুই হাজার ৯৬০ টন ফার্নেস অয়েল নিয়েছে পিডিবি।
এ বিষয়ে পিডিবি বলছে, বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রে সবশেষ প্রাধান্য দেওয়া হয় তরল জ্বালানি। একদিকে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানি বেড়ে যাওয়ায় দেশের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো বন্ধ রাখতে বাধ্য হয় পিডিবি, অন্যদিকে বেসরকারি আইপিপিগুলোর (ইন্ডিপেন্ডেন্ট পাওয়ার প্ল্যান্ট) বকেয়া পাওনা নিয়মিত পরিশোধ করা হয় না। এতে আইপিপিগুলোতে স্বাভাবিক উৎপাদন ব্যাহত হয়। ফলে চাহিদা থাকলেও বিপিসি থেকে চাহিদা দেওয়া তরল জ্বালানি সরবরাহ নিতে ব্যর্থ হয় বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো।
